(১)
পুরুষ গড়ার কারিগর
নারীরা সব পুরুষ গড়ার কারিগর
মা, মেয়ে, বোন কিংবা স্ত্রী,
যে রূপেই দেখিনা কেন,
তফাৎ কি খুব বেশি।
মায়ের ভালোবাসা ছেলের সুখের আশা
ভাইয়ের জন্য বোনের মায়াবী কান্না,
স্বামীর জন্য স্ত্রীর সহস্র ত্যাগ,
কত যে না পাওয়ার বৈষম্য ভুলে
মেয়েই দাঁড়ায় অসহায় পিতার পাশে।
নারীর কত ত্যাগ, কত সহনশীলতা
কোনোদিন হয় নাই তো পূর্ণ মূল্যায়ন,
নারীর সাহসে শত বাঁধা পুরুষ করে অতিক্রম,
তবুও নারী কণ্ঠে নাই তো কোনো অভিযোগ।
পুরুষের আগমন নারীর আঁচলে
ক্লান্তি ভূলে তোমার সাফল্যে করছে সে আত্নদান,
ভেবেছো কভু তার শত গোপন কষ্ট নিয়ে,
পুরুষ তুমি, তোমার জন্যই নারী হাসি মুখে বাঁচে।
পুরুষের জন্ম ও বিকাশ নারীর যত্নে
ভাগ্য তাও নারীর হস্ত রেথাতে,
সুখ নারীর আলিঙ্গনে,
পিতৃত্ব নারীর পূর্ণতায়।
(২)
শিরোনাম: স্ত্রৈণ
স্ত্রৈণ শব্দটা শুনলেই লাগে বেজায় ভারী,
কেউ বলে আহা প্রেমিক, কেউ বলে আভারি।
বউয়ের হাসি যদি করে জীবন রঙিন,
তবে কেন সমাজে এত কথা রাতদিন!
সকালবেলা চায়ের কাপ হাতে দাড়িয়ে সে,
যদি বলে “এই কাজটা করো একটু ভালোবেসে”
বেলা করে বাজারের ফর্দ, তালিকা লম্বা বেশ,
কার কী আসে যায়, যদি স্ত্রৈণে থাকে সুখের রেশ!
বন্ধুরা খোঁচায়, “তুই কি ঘরজামাই?”
গাধার কথায় কি আর মনটা কাঁদে ভাই?
কোথায় পাব বউয়ের মুখের ওই মিষ্টি হাসি,
আমিও হাসি, সব ঝুট-ঝামেলা নিমিষে বাসি।
বউ ভক্ত হবার কী মজা, জানে কয়জন?
অফিস শেষে ঘরে ফিরে ক্লেশ ভরা জীবন!
কে চায় তবে বউয়ের জ্বালাতন ভরা জীবন, ওগো?
আছি ভাল, স্ত্রৈণ হবার দুঃখ তোমার কেন, মাগো।
যদি চাও সুখ তবে বন্ধু, স্ত্রৈণ হতে শেখো,
বউয়ের কথায় প্রেমের সাগরে নেমেই দেখো।
জীবন যদি হয় গান, বউ তার হারানো সুর,
স্ত্রৈণ হলে, যদি কাটে গ্লানি, কষ্ট হয় দূর।
আছে কি দোষ তাতে বুঝি না তো আমি,
ভালোবাসায় কাটছে দিন, সুখে আছো তুমি।
জীবন চলার পথে পাশাপাশি তার মত সাথী কারে পাই,
আমৃত্যু সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করি মোরা চির সাথী তাই।