সাইফ উল্লাহ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে শত শত বছর আগ থেকে গড়ে উঠেছে একটি পেশা জীবী শ্রেণী যাদেরকে বলা হয় কর্মকার শ্রেনী, যারা লৌহ জাত দ্রব্য প্রস্তুত করতো। কিন্তুু বর্তমানে এই শিল্পের কদর ব্যবহার কমে যাওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কর্মকার পেশা।
কর্মকার শিল্পের মুল উপাদান আগুন আর লৌহ। এ দুই মিশ্রিত উৎস নিয়ে কর্মকার সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন জিনিস তৈরী করে থাকেন। কর্মকার পেশায় জড়িত মানুষের একটা বড় অংশ বসবাস করত সুনামগঞ্জ সদর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ,শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর ,মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, ও ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামে। স্বাধীনতার যুদ্ধে অনেক কর্মকার এলাকা থেকে চলে গেলেও কিছু পরিবার রয়ে গেছেন মাতৃভুমি ও দেশের টানে। কর্মকারা যুগ যুগ ধরে বংশ পরস্পরায় নিজেদের ঐতিহ্য আর নিপুন হাতে তৈরী করে আসছে শত রকমের লৌহ জাতীয় দ্রব্য। এর মধ্যে দা, কোড়াল, কাছি, লাঙ্গলের ইস, চাকু, নিড়ানী, জিঞ্জির, হাতুড়ে, করাত, বাসন, কলসী ইত্যাদি। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানুষের শখ, রুচি, চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন আসে এর ফলে কর্মকারদের ব্যবহার বর্তমানে হাস্র পাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে পুঁজি, কাঁচামাল, জ্বালানী সমস্যা। এপেশায় জড়িত অনেকে মনে করেন সরকার যদি সঠিক ভাবে পৃষ্ঠপোষকতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা তাদের আদি পেশা আবারও ফিরে যেতে পারতেন।