সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

জোড়া খুনের ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল ও তার স্ত্রীসহ ৩০ জনের নামে মামলা

Sanu Ahmed
  • Update Time : রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩
  • ৬০ Time View

আশিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :-নরসিংদীতে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাদেকুর রহমান ও আশরাফুল নামে দুইজন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা শিরিন সুলতানাসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাত করে নরসিংদী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।নিহত সাদেকুর রহমানের বড়ভাই হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।মামলা দায়ের পর নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, কামাল হোসেন ও রাসেল নামে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।রবিবার (২৮ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া।মামলার অপর আসামীরা হলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জায়দুল ইসলাম জাহিদ, সাবেক ভিপি ইলিয়াস আলী ভূইয়া, আল-আমিন, তানভির, রবিউল ইসলাম রবি, সোহেল, সাদ্দাম হোসেন ভূইয়া, মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, রিফাত, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রউফ সরকার রনি, সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, শামিম সরকার, শহর যুবদলের আহবায়ক চৌধুরী সুমন, রুবেল হাসান, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লা, সজিব, নাজমুল ভূইয়া, গোলজার হোসেন, শহিদুজ্জামান, শাকিল চৌধুরী, হানিফ সরকার, আল আমিন ওরফে হাদি, ইমাম মেম্বার, ও বাবুল খন্দকার।মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর থেকে নিহত জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাদেকুর রহমান ও ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন ভুইয়ার সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও সদস্য সচিব রিফাতের বিরোধ চলছিল। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রকাশ্যে নাহিদ ও রিফাতকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। কমিটি ঘোষণার পর থেকে পদবঞ্চিতরা নিহত সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পিকআপ ভ্যান ও ১০০ মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চিনিশপুর বিএনপির কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা মিছিলে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্রদিয়ে হামলা করে অনেক নেতাকর্মীকে আহত করেন। ওই সময় সন্ত্রাসীরা সাদেকুর রহমানকে ঘেরাও করে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে। এ ঘটনায় আশরাফুল নামে আরো একজনকে গুলি করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাদেকুর রহমান মারা যান। এর একদিন পর শুক্রবার সকালে অপর ছাত্রদল নেতা আশরাফুল মারা যান।উল্লেখ, গত ২৬ জানুয়ারি জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঘোষিত ওই কমিটিতে সিদ্দিকুর রহমানকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া। প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকেরা অনবরত বিক্ষোভ, দফায় দফায় দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করে আসছিলো। এরই সূত্র ধরে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা মাইনুউদ্দিন গ্রুপের সমর্থক নিহত সাদেকুর রহমান ও আশরাফুল নাহিদ গ্রুপের সমর্থকদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102