শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নবীগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ নবীগঞ্জের রইছগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ইলেকট্রনিক দোকান সহ ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুঁড়ে ছাঁই!ব্যবসায়ীর মাথায় হাত! সাড়ে ১৭লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি৷ কটিয়াদিতে অরক্ষিত পেট্রোল ও ডিজেলের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজন আহত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অনুচ্ছেদ : আত্নহত্যা কবিতা – বাদলা দিনে মধ্যনগরে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি রনজিৎ চন্দ্র সরকার সুনামগঞ্জে মানবিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ বন্যার্তদের পাশে গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব বিশ্বম্ভরপুরে বন্যার্তদের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি আছে , আমরা জনপ্রতিনিধিরা আছি, ত্রাণের কোনো অভাব নেই- ড. মোহাম্মদ সাদিক এমপি খাজাঞ্চি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে চিড়া ও গুড় বিতরণ

ডাক আশিক রুহান

Sanu Ahmed
  • Update Time : রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৯৩ Time View

 

 

১.

টলোমলো পায়ে নদীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে। নাহ, সে নয়, কোনো এক অজানা মাদকতায় আআচ্ছন্ন তার মনে হলো হিমালয় থেকে আসা কোনো অদৃশ্য তুষার মানব, বরফ শীতল হাতে তার হাতটি ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেদিকে………

 

বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে টেবিলের উপর দিয়ে ফোনটা নিয়ে কন্টাক্ট লিস্ট থেকে মায়ের নাম্বারটা বের করলাম। ফোনটা অন করলে সময়টা চোখে পড়ে, রাত ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট।

 

রিং-এর শব্দ বন্ধ হতেই ফোনের ওপাশ হতে মায়ের গলায় একসাথে অনেকগুলো কথা ভেশে এলো-“হ্যালো, ঠিকমতো পৌছেছিশতো? পথে কোনো সমস্যা হয়নি তো? ব্যাগ থেকে টিফিনকারিয়ারগুলো বের করেছিশ?, নাহলে খাবারগুলো নই হয়ে যাবে কিন্তু, ইত্যাদি ইত্যাদি । একেক করে সব কথার উত্তর দিয়ে দিলাম। এরপর আর কিছু টুকটাক কথা বলে, ফোন রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।।

৭-৮ঘণ্টার জার্নিতে শরীরটা বেশ ক্লান্ত লাগছে।ঘরের সব জায়গায় জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বাড়ি থেকে আনা টিফিন ক্যারিয়ারের মুখগুলো খুলে কিছুটা আলগা করে রাখলাম যাতে খাবার নষ্ট, না হয়।

ফ্যানটাও লাগানো হয়নি সিলিং-এ। সমস্যা নেই, দক্ষিণখোলা জনালাটা দিয়ে বেশ জোড়ালো হওয়া এসে শরীর জুড়িয়ে দিচ্ছে।।

 

পরের দিন ঘুম ভাঙলা ফোনকলের শব্দে, মায়ের ফোন। অধিবোজা চোখে কল রিসিভ করে ঘুম জড়ানো গলায় হালো বশাম ওপাশ থেকে ভেশেএলো- ” তারাাৰি ঘুম থেকে উঠে ঘরের সবকিছূগুছিয়ে ফেল”

পরেরদিন ঘুম ভাংলো ফোনকলের শব্দে,মায়ের ফোন। আধবোজা চোখে ফোনটা রিসিভ করে ঘুম জড়ানো গলায় হ্যালো বললাম। ওপাশ থেকে ভেশে এলো.. ” তারাতারি ঘুম থেকে উঠে ঘরের সবকিছু গুছিয়ে ফেল,” পাশ থেকে বাবা মনে করিয়ে দিলো কালকের কথা।হুম বলে ফোন রেখে আবার পাশ ঘুরে শুতে যাবো আচমকাই মনে পড়ে গেল কালকে আমার 1st day of duty.. কথাটা মনে পড়তেই লাফিয়ে উঠে বসলাম।। ওহ!! দেখুনতো এতো কিছু বলে যাচ্ছি, এখনো নিজের পরিচয়টাই দেয়া হয়নি,

আমি আমি শেখ আফরান আসিফ নেউ এস.পি অফ সাউথ সুরমা পুলিশ স্টেশন আগামী কাল আমার ডিউটির ১ম দিন। গতকাল সিলেট এসেছি। এখানে কোয়াটার নেই তাই ছোটখাটো দেখে একটি ফ্লাট ভাড়া নিতে হয়েছে।

অভ্যাসমতো গোসল সেড়ে সকালের নাস্তা করে নিলাম। এরপর ঘড় গোছানোর কাজে হাত লাগালাম, আজকের দিনটাইতো আছে সবকিছু আজ দিনের মধ্যেই গুছিয়ে ফেলতে হবে।

বিকালে হাঁটতে বের হলাম। পহড়ি রাস্তা, কোথাও উচু-নিচু, কোথাও বা সমতল দুর থেকে নদীন পানির কুলকুল শব্দ ভেশে আসছে বাতাস ও দিচ্ছিলো হাল্কা। শরীরটা বেশ চনমনে ও চাঙা লাগছে।

 

অন্যমনস্ক হয়ে হাটছি হঠাৎ চোখে পড়ল হাস্যজ্বল মুখে খন্দকার সম্রাট চৌধুর আমার দিকে এগিয়ে আসছে। উনি আমার সিনিয়র ইন্সপেক্টর অর্থাৎ, এই থানার DGP।

 

উনি কাছাকাছির মধ্যে আসতেই জুতশই একটা স্যালুট দিয়ে বললাম- ” Good afternoon sir। সেরকমই হাসজ্বল মুখে তিনি বলেলেন Good afternoon , good afternoon .. Mr. Asif… I guess. আমি বললাম- “Yeas sir..

 

হাসতে হাসতেই উনি বললেন-হুম আমরা এখন ইউনিফর্ম এর বাইরে আছি সো…. সালুট-টেলুট এর মতো ফরমাল বিষয়গুলো সাইড – এ রাখি, ওগুলো না হয় police station এই হবে, কি বলেন? বলেই আরো এক গাল হেসে নিলেন আমি মাথা নাড়লাম। হাসিখুশি মানুষটাকে বেশ ভালোই লাগলো আমার।

 

মনে মনে খুশিই হলাম। – ”এমন একজন সিনিয়রের আন্ডারে কাজ করতে ভালোই লাগবে।”

দেখতে দেখতে Joining এর ছ’মাস হয়ে গেল। গত ছ’মাসে DGP sir -এর চরিত্রের আরো যেসব দিক আমি আবিষ্কার করেছি তাতে তার প্রতি আমার ভক্তি-ভালোবাসা আরো বেড়ে গিয়েছে। কাজের বাইরে উনি যেমন হাসি-খুশি Uniform – এ উনি – তেমনই গম্ভীর, সৎ ও কর্মোঠ। police station; এর সবাই উনাকে যেমন ভক্তী-শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে ঠিক তেমনি ভয় পায়।হা—- ঠিকই শুনেছেন! ভয় পায়। কারন- এক বিন্দু পরিমান দায়িত্বহীণতা Sir এর অপছন্দ!

সে যাই হোক এমনএকজন দখিত্ববান Police officer এর সাথে কাজ করে আমি-সহ বসাই বেশ খুশি।

 

প্রতিদিনের মতো থানায় বসে পুরোনো case – এর ফাইলগুলো ঘেটে দেখছি হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। Unknown Number থেকে এসেছে কলটা, ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অবাক হয়ে গেলাম, শুনতে পেলাম-” কী-রে কিখবর তোর, আছিফ। ওহ, থুরি ইন্সপেক্টর আছিফ। তো, কেমন আছেন sir?”

 

গলাটা আমার চেনা, রিমিনি। ভালো নাম ইশিতা আমীন। আমার কলেজ জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধ। কিন্তু, কলেজ এর গন্ডি পার হওয়ার পর থেকে আমাদের যোগন যোগ শিথিল হয়ে যায়। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরি। আজকে এতোদিন পর ওর ফোন পেয়ে তাই বেশ অবাক হেয়েছি,তা বলার অপেক্ষা রখেনা।

ওর কথার উত্তরে আমি বলী বললাম- “এইতো, আলহামদুলিল্লাহ। তোর কী খবর, এতোদিন পর, আমার নাম্বার কোথা থেকে পেলি কোথা থেকে কী??”

 

ও বললো-‘আর বলিশ না অনেক কাট- ঘর পুড়িয়ে তারপর সব মানেজ করতে হয়েছে। আপনারতো কোনো পাত্তাই নাই, বড় Police oficer বলে বলে কথা–”

 

আমি বললাম-আরে নাহ! কী যে বলিশ

কিন্তু Sorry-রে, আমার ভুল হয়েছে, আমার উচিৎ ছিল যোগাযোগ রাখার। কিतु বিশ্বাস কর এই কবছর আমার পরিস্থিতি এমন ছিল যে আমি কারো সাথেই যোগাযেগ করতে পারিনি।”

ও বললো-“আচ্ছা, বাদ দে এসব। এখন বল কবে দেখা করবি?

 

আমি বললাম- “দেখা করব মানে? আমিতো সিলেট, এ তুই কোথায় থাকিশ?

ও বললো- ” আরে হাদা… আমি জানি তুই সিলেটে এসেছিস। আমিও সিলেটেই থাকছি বেশ কয়েকদিন আমি এখানকার একটি সংবাদপত্র- দেশের কথা এর রিপোটার।

 

আমি বল বললাম-“ওহ! তাহলেতো আর কথাই নেই, চল, আজ সন্ধায়ই দেখা করি

ও বললো – OK, Done.

 

২.

পরেরদিন Police station থেকে একটু আগে বের হলাম। রিমিনির সাথে দেখা করার কথা ছিল রোভার্স ক্যাফেতে, সন্ধা ৬ টায়। কিন্তু পৌছাতে Late হয়ে গেল ১৫ মিনিট। মনে মনে ভাবলাম- “ইশ কি ভাববে মেয়েটা? এতোদিন পর দেখা করবো তাতেও Late…. –

 

ক্যাফে পৌছতেই চোখে পড়লো গোলাপি শাড়িতে ফুটফুটে সুন্দরী একি মেয়ে রাস্তার দিক তাকিয়ে অধির অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে ডাক দিতেই আমার দিকে তাকিয়ে হরিণের মতো ভগর চোখ দুটো বড় বড় করে, কাশ্মিরি আপেলের মতো গালদুটো ফুলিয়ে রিমনি বললো- এতোক্ষণে

আসার সময় হোল আপনার মি: আসিফ? তুই না Police Inspector? তোর যদি সময় জ্ঞান না থাকে, থাকবে কি অন্যদের?

 

অবস্থা বেগতিক দেখে তাড়াতাড়ি কান ধরে বলালাম-” ওরে বাবা sorry, Sorry হাতের কাজগুলো সেঁড়ে বের হতে একটু হয়ে গিয়েছে। please ক্ষমা করে দে”

সেরকমই রাগি মুখে ও বললো-“এমনটা যেন আর না হয়, বলে দিলাম।”

আমি বললাম – “আচ্ছা বাবা ঠিক আছে এখন চলুন ম্যাম ভিতরে যাওয়া যাক।”

ফিক করে একটি মিটি হাসি দিয়ে ও বললো- ” আচ্ছা চল।”

এরপর দুজনে একসাথে ক্যাফেতে ঢুকলাম।।

 

ক্যাফেতে ঢুকে দুজনে একটি টেবিল বুক করে ওয়েটারকে দুটো কফি অর্ডার দিলাম। কথা, শুরু করলাম আমি বললাম- ” তো.. কি খবর তোর আঙ্কেল আনটি কোথায়? আর তুই এখানেই বা কেন? ও বললো–” এই আছি কোনো রকম। বাবা-মা ওখানেই আছে, বাবা রিটায়ার্ড করেছে আর ছোট বোনটা এবার HSC পরীক্ষা দিবে। আর আমি. বাংলাতে অর্নাস শেষ করে এই কিছুদিন হলো এই জবটা পেয়েছি। তোর কি অবস্থা? এবার তাই বল।”

আমি বললাম-“ আমারো সেম কেস রে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে, ভাইয়া ঢাকায় জব করছে, আর আমি সিভিল এ BSc করে police a জয়েন করেছি। –

দুইবন্ধু এভাবে আরো বেশ কিছুক্ষন গল্প করলাম, কফি খাওয়া শেষ করে ক্যাফে থেকে বের হয়ে রিমিনিকে ওর বাসায় পৌছে নিজে বাসায় ফিরলাম।

 

হাতঘড়িটা একবার দেখে নিয়ে দ্রুত পা চালায় আখি। ১২.৩০ বাজে।আজকে ওভার ডিউটি করতে গিয়ে বেশ অনেকটা রাত করে ফেলেছে ও। নদীর ধারের এই রাস্তাটা দিনের আলোয় অপুর্ব সুন্দর লাগলেও এখন ভুতুড়ে লাগছে ওর কাছে।একটুকরো ঘন কুয়াশা যেন ওকে ঘিরে ভেসে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ কোত্থেকে ভেসে আসা একটা আঁশটে গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে আখির। কানের কাছে আলতো একটা ফু অনুভব করে ও।

এসব কি হচ্ছে ওর সাথে, মাথাসহ পুরো শরীরটা এতটা ভারি লাগছে কেন??নিজের উপর সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে ও। অঞ্জান হওয়ার ঠিক আগে ও শুনলো কে যেন ওর নাম ধরে ডাকছে ……

 

পরেরদিন সকাল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্লেশ হয়ে মায়ের সাথে কথা বলে Break fast করতে বসবো ঠিক সেই সময় ফোনের শব্দে হক চকিয়ে গেলাম।DGP Sir এর ফোন, কল রিসিভ করলে sir গম্ভীর গলায় বললো-“আমাদের এরিয়ায় একটা Marder হয়েছে। Serious case, শুধুমাত্র ধরটা পড়ে আছে নদীর ধারে মাথা উধাও, ওহ! বউিটা একটা মেয়ের। তুমি Fast crime spot -এ এসো, আমি location Text করে দিচ্ছি, Fast এসো, Fast, Fast…… শুনে শুরুতে আমি বেশ নড়ে গেলাম।

 

এমন কেস আমার জীবনে এই প্রথম। দেড়ি না করেই রেডি হয়ে গেলাম। Break fast না করেই রওনা দিয়ে দিলাম। ওখানে কী গিয়ে কি দেখতে চলেছি তা ভাষতেই বেশ রোমাঞ্চ অনভব করলাম।

 

crime spot-এ পৌছে দেখলাম ঘন ভিড় যমেছে। কন্সটেবল ও অফিসাররা ভিড় সমলাতে হিমসিম খাচ্ছে। পিছন থেকে ভিড় ঠেলে সামনে গেলাম? সামনে গিয়ে যা চোখে পড়লো তাতে শীড় দাড়ায় শিরশির অভূতি টের পেলাম। আমার সমনে পড়ে আছে মুন্ডুহীন ধরটা। ধরটি একটি নারীর। নারীটি বছর ২৫ এর বলে মনে হলো।

 

কিदू Personal Investigation করার পর কন্সটেলকে বললাম Body টাকে ফরেসিক ল্যাবে পোস্টমর্টামের জন্য পাঠাতে। পরীক্ষা করার সময় দুটো বিষয় আমাকে হতবাক করে দিল, তা হলো – ১. ধড় থেকে মাথাটা এমন নিক্ষুত ভাবে কাটা হয়েছে যে মনে হচ্ছে যে এই বড়িত কোনোদিনই কোনা মাথা ছিলোই না। আর ২. বডি বা আসেপাসের কাদা মাটিতে কোনো ধস্তাধস্তির বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই

Crime spote থেকে Police station. ফিরে এলাম। পথে Just একটা কথাই মাথায় ঘুরতে লাগলো-“এমন খুনও হতে পারে?”

 

Police station-এ পৗছাতেই কন্সটেবল রিমা আমাকে বললো- “sire, DGP sir বলেছেন আপনি যেন police stoition এ পৌছেই তার সাথে দেখা করেন। আমি বললাম-“ওহ আছা।” বলেই DGP sir এর চেম্বারের দরজায় গিয়ে বললাম- ” May I come in sir?” সার বললেন- ” Yeah, Asif, come come বসো আমি একটি চেয়ার টেনে বসলাম। স্যার মুখ থেকে হাত সরিয়ে গম্ভীর গলায় বললে – “এমন কেস আমার 20 year’s এর career এ – এই -প্রথম।” আমি বললাম- ” sir, মেয়েটির শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই । এমনকি গায়ের গয়না বা কাছে থাকা ফোন ও টাকাও অক্ষত। ” স্যার বল্লেন -” হুম… strange case Asif, strainge case –.”

বলেই sir আবার চিন্তার জগতে চলে গেলেন। আমি sir এর কাছ থেকে permision নিয়ে চলে এলাম নিজের সিটে। পরের দিন DGP sir এর চেম্বারে আবার ডাক পড়ল। গিয়ে দেখলাম sir কিসের একটা paper খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। গম্ভীর ভাবে কাগজটি আমার হাতে ছিলেন। কাগজটি হাতে নিয়ে দেখলাম ওটা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট। আর তাতে যা লেখা রয়েছে তা পড়ে আমার বিশ্বয়ের বাধ ভেঙে গেল।

তাতে লেখা-“মেয়েটির বডিতে কোনো Finger print নেই, অর্থাৎ, তাকে কেউ Touch পর্যন্ত করেনি…”

 

হাই হিল পড়ে এতোটা পথ চলতে বেশ কষ্ট হচ্ছে সিনথিয়ার, আজকে ক্লাবে পার্টিটায় বেশ মজা হয়েছে। কিলু ক্লাব থেকে বেরিয়ে কোনো ক্যাব/ সিএনজি না পেয়ে এতোদুর হাটতে মেজাজটা খিচড়ে গেল তার। ফোনের ফ্লাশটা অন করতে করতে ও ভাবলো- “এতো গড়মের মধ্যে কুয়শা আসলো কোথা থেকে?”

 

হঠাৎ শরীরটা ভাড়ি হয়ে এলো সিনথিয়ার। ও তো পার্টিতে কোন ড্রিংস করেনি, তাহালে এতো ঘুম পাচ্ছে কেন ওর?

 

নিজের উপর থেকে সব নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ার আগমূহূর্তে সে শুনতে গেল সিনাইয়া, এদিকে এসো…..সিনথিয়া…..

একইসাথে তার নাকে এলো একটি অসহ্যকর আঁশটে গন্ধ…

 

দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেছে এখনো কেসটার কোনো কিনারা হলো না- এসব ভাবছি আর কেসফাইলটা দেখছি হঠাৎ ফোনের শব্দে ঘোর ভাংলো। ফোনের দিকে তাকাতেই রিমিনির নামটা চোখে পড়লো ফোন রিসিভ করতেই রিমনিবললো- “কিরে কী খবর তোর কেসটার? কোনো কিছু বের হলো? যাই বোলিশ আসিফ, এই কেসটা বেশ Interesting..” আমি বললাম” আর বলিশ না। কি যে করব কিছু বুঝতে পারছিনা। কোথাও কোনো clue নেই, সবকিছূ একেবারে cleani একবারের যায়গায় কয়েক দফায় তদন্ত করেছি কিচ্ছু পাচ্ছিনা।”

ও বললো-“ওহ আচ্ছা বুঝতে পারছি।দেখ কতদুর কি করতে পারিশ আর আমিও আমার যায়গা থেকে তোকে help করার চেষ্টা করবো।” এরকম আরো কিছু কথা বলে ফোন রাখতে যাব, এর মধ্যে থনার ফোনটা বেজে উঠলো। রিমিনির কলটা কেটে ফোন রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে যা শুনলাম তাতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো- আরো একটা খুন হয়েছে। আর তাও আগের খুটার মতো একই রকমভাবে ও একই যায়গায়।

 

 

খবরটা DGP sir-কে বলতে উনি ওনার চেয়ার থেকে এক প্রকার লাফিয়ে উঠে আবার ধপ করে সে পড়লেন এবং বললেন- “এসব কী হচ্ছে আসিফ? “দেখে তো মনে হচ্ছে এটা serial killing. Investigation আরো জোড়দার কর এবং ঐ এরিয়ায় সিকিউরিটির ব্যাবস্থা কর Immediatly….”

আমি বললাম -“ok sir” =

 

৩.

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ছয়টি মাস, আহামদুলিল্লাহ, এর মধ্যে আর কোনো Bad news, I mean কোনো Murder এর খবর আসেনি। দিনকাল নিঃঝনঝাটেই কেটে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই Unsolved case টা মাথা থেকে সের করতে পারছিনা। কিন্তু একটা বিষয় আমাকে অবাক করছে, আর সেটা হলো DGP sir এর behaviour দেখে মনে হছে তিনি যেন সবকিছূ বেমালুম ভুলেই গিয়েছেন। যেন কোনো দিন কিছু হয়ই নিই। তার চেয়ে বড় কথা গত ২-৩ মাসযাবত তিনি এই কেসটা গায়েই মাখছেন না। কিছু বলতে গেলেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছেন। তার এই আচরনটি যে আমার কিছুটা লাগলো এটা আমাকে বলতেই হচ্ছে।এই প্রথম তার দায়িত্বহীনতা সম্পর্কে আমার মনের কোনে কিছুটা সশেহ সন্দেহের উদ্রেক হলো।।

 

সেদিন morning walk – এ বের হয়েছিলাম। নদীর ধরের পথটা দিয়ে হাটতে ভালোই লাগে। শরীর-মন দুই-ই fresh হয়ে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে হাটতেছি হঠাৎ চোখে পড়লো DGP sir সামনে দিয়ে আসছেন। এটা নতুন কিছু না এমন প্রায়ই দেখা হয় আমাদের। দুজনে একসাথে হাটি। স্যার সামনে আসতে সলাম দিলাম, উনি সালামের উত্তর দিলেন।

 

প্রতিদিনের সাভাবিক কথা বার্তা বলতে বলতে দুজনে হাটছি একপর্যায়ে সার বললেন -” আছিফ, আগামী মাসের ১০ তারিখ আমার জন্মদিন” আমি বললাম-”তাই স্যার? সেটাতো ভালো খবর।” উনি বললেন- “হুম, আমি ৪৫- এ পা দিতে যাচ্ছি। আমি সাধণত আমার জন্মদিন পালন কঠিনা, তা… এবার ভাবলাম একটু কিছু করি। তাই ভাবলাম একটা party arenge করব।” আমি বললাম- ” ও আচ্ছা, That’s agood idea. ” স্যার বললেন -” হ্যা, Depentment এর অনেককে invite করবো। শুরু টা তোমাকে দিয়ে করলাম। তুমিতো আসবেই তোমার Family কেও নিয়ে এসো।” আমি বললাম-” আমার Family তো এখানে থাকেনা স্যার। আমি এখানে একাই থাকি।” স্যার বললেন-” আছা, তোমার কাছের কেউ ‘ই কি নেই এখানে?

 

আমি বললাম“কেউই নাই সেটা বলা মিথ্যে বলা হবে স্যার। আছে একজন, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, রিমিনি। ও এখানের একটা সংবাদপত্রের দয়িত্বে আছে।” স্যার বললেন- ” ওহ ভালোই তো। ওনাকেই নিয়ে এসো। এই ফাকে পরিচয়টাও হয়ে যাবে।”

 

রাতে বাসায় ফিরে Fresh হয়ে ভাবলাম রিমিনিকে একটা ফোন দেই, ওর সাথে অনেকদিন কথা হয় না। আর তাছাড় সকালের DGP স্যারের invitation এর কথাটাও জানাতে হবে ওকে। যে ভাবনা সেই কাজ, কলটা করেই ফেললাম ওকে।

 

কল রিসিভ করে রিমিনি বললো -“হ্যালো, স্যারের তাহলে এতোদিন পর তার বন্ধুর কথা মনে পড়লো? এই, কই ছিলিরে তুই এই ১০-১৫ দিন?” আমি বললাম-“আর বলিশনা রে কাজের খুব চাপ।”ও বললো- তুই থামতো কিছু বললেই শুধু কাজের অযুহাত।” আমি বললাম-“আরে বাদদেতো, শোন একটা invitation আছে। আমাদের ডগপ sir এর Birthday ১০ তারিখে। আমার সাথে যেতে হবে তোকে।” ও বললো-” আরে ধুর এটা হয় লাকি? আমি যাবো না, তুই যাহ।।”শেষমেশ অনেক Request এরপর রিমিনি? রাজি হলো party তে যেতে।

 

পার্টির দিন সন্ধায় পার্কের পূর্ব দিকের গেটটার সমনে দাড়িয়ে ছিল রিমিনি। ও পড়ে ছিল একটি সাদা লংগাউন। সাদা গাউনটিতে অপূর্ব সুন্দর লাগছে ওকে। ঠিক যেন স্বর্গের কোনো পরী। ওখান থেকে ওকে নিয়ে রঙনা দিলাম স্যারের বাড়ির দিকে। এখান থেকে স্যারের বাড়িটা বেশি ঘুরে নয় হেটেই যাওযা যায় তাই আর কিক্সা নিলাম না।

 

২০ মিমিট হেটে স্যারের বাড়ির সামনে পৌছলোম। মাঝারি আকারের লোহার গেট পেরিয়ে ২০-২৫ ফুটের পাথুরে রাস্তা। রাস্তার দুধারে বিভিন্ন জাতের ফুলের বাগান। মূল বাসাটি একটি দুতলা ডুপ্লেক্স।।

 

কোথা থেকে পার্টি মিউজিক ভেসে আসছে। আমরা বুঝতে পারলাম ওটা আসছে বাড়িটির পেছন থেকে। শব্দটা অনুসরণ করে বাড়িছির পেছনে গেলাম।

বেশ বড় পরিসরে পার্টির আয়োজন করেছেন DGP স্যার। গেস্টও নেহাতই কম নয়, কমপক্ষে ৯০-১০০ জন তো হবেই।

 

আমাদের দেখতে পেয়ে sir আমাদের দিকে তার চিরপরিচিত হাস্যজ্বল মুখে এগিয়ে এলেন। স্যার বললেন- ” Good evening, Asif and you beautiful lady…….” বলেই রইমিনির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হ্যান্ডশেক করতে করতে রিমিনি উত্তর দিলো- ” ইশিতা আমিন, অর্ফে রিমিনি।”

 

আলাপচারিতার পর আমরা মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। আমার সিলেট আসার আগে থেকেই রিমিনি এখানে আছে, স্বাভাবিক ভাবেই এখানের অনেকেই ওর পূর্বপরিচিত। সেরকমই ওর কিছু পূর্বপরিচিতা আজকের পার্টিতে আমন্ত্রিত ছিলেন। ও তাদের সাথে গল্পে যোগ দিল।আর আমিও আমার কলিগদের সাথে গল্পগুজব করে পার্টিটা উপভোগ করছি হঠাৎ ফোনে রিং এর শব্দে তাকিয়ে দেখলাম আমার একজন ইনফর্মার আসাদ ফোন করেছে।ওর সাথে কথা বলতে প্রায় ঘন্টা খানেকের জন্য আমাকে পার্টির বাইরে যেতে হলো।

 

আসাদের সাথে কথা শেষ করে ফিরে এসে দেখি রিমিনি গেটের সামনে গগম্ভীরমুখে দাড়িয়ে আছে।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম- ” কি রে,তুই এখানে যে? কী হয়েছে? ” আমার পশ্নের উত্তর না দিয়েই ও বললো-” তুই কোথায় ছিলি? আর আমার শরীরটা খারাপ লাগছে, আমি বাড়ি ফিরবো।” আমি আর কথা না বাড়িয়ে ওকে নিয়ে ওর বাড়ির দিকে ওয়ানা হলাম।

 

পথে স্যার ফোন করেছিল। সবটা শুনে দুঃখ প্রকাশ করল। আমি রিমিনিকে এর ফ্লাটে নামিয়ে দিয়ে নিজের বাসায় ফিরলাম। পরেরদি দিন সকালে রিমিনি ফোন করে বললো বিকালে ও আমার সাথে দেখা করতে চায়। কি একটা জরুরি কথা বলতে চায় আমাকে।।

 

সন্ধায় দেখা করলাম আমরা।আমি বললাম- ” কী হয়েছে বল।” কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো ও, হয়তো মনের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে নিল।এরপর বললো -“কাল তোকে আমি মিথ্যে বলেছিলাম , আমার কাল রাতে কোনো শরীর খারাপ ছিলোনা। কাল খন্দকার সাহেবের আচরণ আমার মোটেও ভালো লাগেনি। কাল বার বার আমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন।এমনকি কয়েকবার টাচ করারও চেষ্টা করেছেন।

 

আমি বললাম -” আমি বুঝেছি বিষয়টা।আচ্ছা,তোকে আমার সাথে একটা কাজ করতে হবে। কাজটায় কিছুটা রিস্ক থাকলেও

তোর কোনো ভয় নেই, আমি থাকবো তোর সাথে। ও বললো -“তোর উপর আমার সম্পুর্ণ আস্থা আছে। কি করতে হবে তাই বল।”

 

নিঃশব্দে গুটি গুটি পায়ে হাটছে আসিফ। মাঝে মাঝেই চলে যাচ্ছে গাছের পিছনে, যেন কোনো কিছু থেকে নিজেকে আড়াল করছে।তার কয়েক গজ সামনে দিয়ে স্থীর পায়ে হাটছে রিমিনি।কোনো এক অজানা আতংকে গা শিউরে উঠছে তার।বুক দুরু দুরু করছে ওর। আজ অমাবস্যা, তাই চাঁদের আলো নেই। তাও দূর থেকে ভেসে আসা নক্ষত্রের আলোয় দেখা যাচ্ছে চারপাশ। সেই আলোয় পথ চলছিল রিমিনি। কিছুক্ষণ একইভাবে হাটার পর ওর মনে হলো ওর চারপাশ যেন আবছা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। অঅল্পক্ষণের মধ্যেই কুয়াশা আরো ঘন হয়ে এলো। ও লক্ষ্য করলো, কুয়াশা ছাড়া ও আর কিছুই দেখতে পারছে না। এরই মধ্যে ওর নাকে এলো একটা উৎকট আশটে গন্ধ।

 

দূর থেকে সবকিছুই লক্ষ্য করছিলো আসিফ। প্রস্তুত করলো কাজটা করতে।

 

গন্ধটা ক্রমেই অসহ্যকর হয়ে উঠছে। মাথাটা ধরে এলো রিমিনির। জ্ঞান হারানোর সময় ওর কানে এলো – ” রিমিনি……এদিকে এসো…… রিমিনি……. হঠাৎ করে খুব জোরে হাতে একটা হ্যাচকা টান অনুভব করলো রিমিনি।

 

ঝোপের পিছন থেকে আসিফ লক্ষ্য করলো মেঘের মতো ঘন একপিন্ড কুয়াশা ঘিরে ধরেছে রিমিনিকে। ও দেখলো প্রায় অস্পষ্ট রিমিনি আচ্ছন্যের মতো টলমলভাবে নদীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই আর দেরি না করে আসিফ ঝোপের আড়াল থেকে বের হয়ে দৌড়ে গিয়ে কুয়াশাভেদ করে রিমিনির হাত ধরে ফেলে। আর রিমিনি লুটিয়ে পড়ে তার হাতের উপর

 

রিমিনিকে ওর ফ্ল্যাটে পোছে দিয়ে ফিরছি হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে ভেশে উঠেছে DGP স্যারের নাম। ফোন রিসিভ করতে ওপাশ থেকে ভেশে এলো- আ……. আসিফ। আ,আ….মাকে বাচাও আসিফ,আসিফ আমাকে বাচাও। ও……ও, এসে গেছে,ও আমাকে মেরে ফেলবে আসিফ, আমাকে মেরে ফেলবে।

আমি বললাম -” হ্যালো, হ্যালো স্যার,স্যার আপনি শান্ত হোন,কী হয়েছে? কে,কে আপনাকে মেরে ফেলবে?হ্যালো,হ্যালো

…….। আমার কথার মাঝেই ফোনটা কেটে গেল।আমি দ্রুত পা চালালাম।ঘটনাগুলোর আকশ্বিকতায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।

 

DGP স্যারের বাসায় পৌঁছে দেখলাম মেইন গেট হাট করে খোলা। সামনের লন পেরিয়ে গিয়ে দেখলাম বাড়ির দরজা ভাঙা। ঢুকে যা দেখলাম তাতে আমার শীড়দাড়া নিয়ে বরফ শীতল স্রোত বয়ে গেলো। ঘরের সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে আছে। এমন কি ভারি ভারি আসবাবপত্র গুলো খড়কুটোর মতো এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেনো জঙ্গল থেকে আসা কোনো উন্মুক্ত হাতি ঘর জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে।

 

এসবের মধ্যে আবিষ্কার করলাম রিভলবার হাতে ঘরের এক কোণে পড়ে আছে DGP স্যারের দেহ এবং তার কয়েক হাত দূরে পড়ে আছে ধড় থেকে নিখুন ভাবে আলাদা করা DGP স্যারের মাথা।

 

৬মাস পর আজকে রিমিনীকে নিয়ে সেই কফি হাউযে এসেছি। এক সময় রিমিনি বললো -” এসব কী ঘটে যাচ্ছে আমার সাথে

আসিফ? আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা। Please… আমাকে সব কিছু খুলে বল।”

 

আমি বললাম “DGP স্যারের মার্ডার এর কেসটা আমাকেই দেয়া হয়েছিলো। investigation এর এক পর্যায়ে আমরা DGP স্যারের বাড়িতে একটি গোপন ঘর আবিষ্কার করি। আর তাতে যা ছিলো তা আমরা কেউই কল্পনা করতে পারিনি। অবশ্য আমি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। সেজন্যইতো সেদিন তোকে নিয়ে ওই প্লানটা করেছিলাম আমি।”

ও বলল, “হুম বুঝেছি। সেদিনে ওই ঘটনা মনে হলে আমার এখনো গায়ে কাঁটা দেয়।

আমি বললাম “হুম” এই ঘরটিতে আমরা যা আবিষ্কার করেছিলাম ব আমাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিলো। ওই ঘরের দেয়াল জুড়ে ছিলো অসংখ্য সেফ। আর এই সকল সেলফ এ রাখা ছিলো কাে বক্সে রিজার্ভ করা মেয়েদের কাঁটা মাথা।

 

বলল “ What! Oh, my goodness!!” তার মানে ওইসব খুন DGP স্যার করেছে? আর ওইদিন শুনাৰ টা ছিলাম আমি?”

 

আমি বললাম “ঠিক তাই”। আর উনি এসব খুনের পিছে আছে, তা আমি জানতে পারি পার্টির দিন। তোর হয়তো মনে আছে আমি ওইদিন কিছু সময় এর জন্য পার্টির বাইরে গেছিলাম। আসলে তখন আমার ইনফর্মার আসাদ ফোন করেছিলো। ও আমাকে জানায় “স্যার বেশ খাসা খবর আছে, same to same serial killing এর কেন আরো এক যায়গায় ঘটেছে স্যার, বরিশালে দুই বছর আগে চারটা মার্কার হয় একই রকম ভাবে। আর এই সময় খন্দকার স্যার ওখানকার ওসি ছিলেন। কেন সলভ হওয়ার আগেই তার ট্রান্সফার হয়।

 

কিন্তু, তুই একটু ভুল বলেছিস, সেদিন তুই যার টার্গেট ছিলি বা ওইসব মেয়েরা যার হাতে মারা গিয়েছিলো সে আসলে কোনো মানুষ নয়।। “হাকিনী”।

রিমিনী অবাক হয়ে বলল “হাকিনী?” আমি বললাম, “হ্যা হাকিনী”।

 

হাকিনী হলো একধরনের অশরিরী প্রেতাত্মা। এদের কাজ হলো এদের মালিকের হুকুম অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ করা। আসলে “DGP স্যার ছিলেন একজন সাইকোপ্যাথ। তার একটি উদ্ভট আর ভাংকর শখ ছিলো, নিজের পছন্দ হওয়া মেয়েদের মাথা নিজের ঘরে সাজিয়ে রাখা। আর এইজন্যই তিনি হাকিনী চর্চা শুরু করেন। ”

“কিন্তু এই হাকিনী চর্চার একটি খারাপ দিক হলো। যদি হাকিনী তার প্রভুর আদেশকৃত কর্মে কৃতকার্জ না হতে পারে তবে উল্টে তার প্রভুরই ক্ষতি করে। তবে এক্ষেত্রে DGP স্যারের বেলায় সেই ক্ষতিটা ছিলো অপুরণীয়। মৃত্যু …….

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102